ক্রিকেটে সাকিবের বয়স ১৪ বছর। তবে সাকিবের বয়স খুব একটা বেশি নয়। যেখানে অনেকেই ৪০ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে সেখানে সবে সাকিব ৩৩। কিন্তু তারপরও সাকিব ভেবেছিলেন খেলবেন আর ২-৩ বছর। কিন্তু ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও গোপন করার সময় যে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন সেই একবছর সাকিবের ভাবনা বদলে দিয়েছে।

এর কারণটা অবশ্য সাকিবের নিজের ব্যক্তিগত কোন বিষয় নয়। এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাকিব ভক্তদের যে ভালোবাসা পেয়েছেন সেই ভালোবাসার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ভাবনার বদল তার। সেকারণে সাকিব পণ করেছেন, এবার খেলবেন সমর্থকদের জন্য।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সাকিব জানালেন তার ভবিষ্যৎ ভাবনা।

“আমার মনে হয়, আরও কিছু বছর বাকি আছে আমার। এই এক বছর (নিষেধাজ্ঞার) আমার আশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে যে আরও লম্বা সময় আমি খেলতে পারব। পরিবার ও অন্য সবকিছু মিলিয়ে একটা সময় আমি ভাবছিলাম, হয়তো আর বছর দুয়েক খেলব। কিন্তু এক বছরের নিষেধাজ্ঞার পর এবং বিশ্বকাপে যেমন খেলেছি, তার পর আমার মনে হচ্ছে, আমি আরও বেশিদিন খেলতে পারি।”

“এখন আমি যেটা ভাবছি, অন্তত আরও ৩ থেকে ৫ বছর যেতে পারি। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ওপর। এই দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যতদিন উপভোগ করছি, খেলে যাব। যখন অনুভব করব যে উপভোগ করছি না, সেদিনই বলব, যথেষ্ট হয়েছে।”

জুয়াড়ির কাছ থেকে তিন দফায় প্রস্তাব পেয়েও তা গোপন করায় গত অক্টোবরে সাকিবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আইসিসি, যার মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত। হার্শার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারেই সাকিব বলেছেন, আইসিসি দুর্নীতি দমন কর্তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে ৫ থেকে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি।

সাকিব জানালেন, এই নিষেধাজ্ঞার পর ক্রিকেট খেলা নিয়ে তার মনোজগতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

“এই সময় ও এই পরিস্থিতি আমার ভাবনা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আগে আমি দেশের জন্য, আমার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য খেলতাম। এখন একটি কথাই ভাবি, সমর্থকদের প্রতিদান কীভাবে দেব। গত ১২-১৫ বছর যে মানুষগুলি আমাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন এবং আমার এই কান্ডে তারা যেভাবে হতাশ হয়েছে, কীভাবে তাদের প্রতিদান দিতে পারি। এখন কেবল এই ভাবনাই আমার আছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here